Investment Policy
ইনভেস্টমেন্ট নীতিমালা
১. ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক ইনভেস্ট সংগ্রহ করা হবে এবং তা বিনিয়োগ করা হবে।
২. ইনভেস্টকারীকে লাভ-লোকসানের আনুপাতিক হার যা বলা হয় তা হিসেব করে আনুমানিকভাবে ধরা হয়। বছর শেষে হিসেব হওয়ার পর চূড়ান্তভাবে লাভ-লোকসান নির্ধারিত হবে এবং সে অনুযায়ী লভ্যাংশ পাবেন। ইনভেস্টকারীগণ বছর শেষে এক সাথে লভ্যাংশ নিতে পারেন।
৩. ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানীর একাউন্টে জমা হওয়ার সময় থেকেই তা বিনিয়োগ হিসেবে পরিগণিত হবে এবং সে তারিখ থেকেই লভ্যাংশ হিসেব হবে।
৪. চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান, ইয়াতীম, বিধবা মহিলাদের প্রদত্ত ইনভেস্টমেন্ট এর লাভ অন্যান্য ইনভেস্টরদের তুলনায় বেশী দেয়া হবে।
৫. যে কেহ কোম্পানীর নির্দিষ্ট কোন প্রজেক্ট বা মূল কোম্পানীতে ইনভেস্ট করতে পারবেন। নির্দিষ্ট প্রজেক্ট এ ইনভেস্টকারী উক্ত প্রজেক্ট এর লাভ-লোকসানের অংশীদার হবেন। আর মূল কোম্পানীতে ইনভেস্টকারী সামগ্রিকভাবে লাভ-লোকসানের অংশীদার হবেন।
৬. শেয়ার এন্ড কেয়ার এর কোন নির্দিষ্ট প্রজেক্ট এ অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে (Joint venture) ইনভেস্ট করার সুযোগ রয়েছে।
৭. যদি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট খরচের (মূল্যের) ১০%-৪৯% শেয়ার ক্রয় বা বিনিয়োগ করে এবং শেয়ার এন্ড কেয়ার প্রজেক্ট বাস্তবায়নসহ বাকী ৫১% বিনিয়োগ/অংশীদার হয়। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় নিট লাভের পর বিনিয়োগের পরিমানের উপর সেই হারে বছর শেষে লভ্যাংশ পাবে।
৮. কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি লভ্যাংশ প্রজেক্ট এর শুরু থেকে প্রতি মাসে নিতে চায় তাহলে তার সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী তিনি লভ্যাংশ পাবেন।
৯. কোন প্রজেক্ট এর Initial Investment (প্রাথমিক মূলধন) Capital investment (মূল মূলধন) ও Development investment (উন্নয়ন খরচ) হিসেব করেই লাভ বা লোকসান নির্ধারিত হবে।
শেয়ার এন্ড কেয়ারে বিনিয়োগের কয়েকটি পদ্ধতি
১. পার্টনারশীপ ব্যবসা (মুশারাকাহ নীতিমালা)
শেয়ার এন্ড কেয়ার ইসলামী ব্যাংকিং এর মুশারাকাহ নীতির ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মুশারাকাহ নীতির মূল কথা হচ্ছে:
*কোম্পানীর সাথে ব্যক্তির সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী লভ্যাংশের মালিক হবেন এবং অর্থের আনুপাতিক হারে ক্ষতির অংশীদার হবেন।
*অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে কোম্পানীর যে সম্পদ ও ফান্ড সৃষ্টি হয় তার মালিক সকল অংশীদারগণ হবেন।
ঝষববঢ়রহম চধৎঃহবৎ নিজস্ব শেয়ারের অনুপাতে লাভ পাবেন আর গধহধমরহম চধৎঃহবৎ ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট ভাতা বা বোনাস পাবেন।
*কোন পার্টনারের সম্মতি বা পূর্বানুমতি ছাড়া অর্থ বিনিয়োগ বা সম্পদ বিক্রী করা যাবেনা।
কারো কাছে কোন বিষয় অস্পষ্ট রাখা যাবেনা এবং কোন পক্ষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
২. মুদারাবাহ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ ( সুরা মুযাম্মিল অয়াত ২০)
মুদারাবাহ পদ্ধতিতে ইনভেস্ট হচ্ছে ইনভেস্টর কোন প্রজেক্ট এর মূলধন প্রদান করবেন আর কোম্পানী উক্ত প্রজেক্ট বাস্তবায়নে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিয়োগ করবে। এই পদ্ধতিতে কোম্পানীর সাথে ব্যক্তির লভ্যাংশের পরিমানের চুক্তি আগেই নির্ধারিত হবে। এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগের মূলনীতি হচ্ছে:
* লভ্যাংশ বিনিয়োগকৃত টাকার ভিত্তিতে শতকরা হিসেবে নির্ধারিত না হয়ে লাভের শতকরা হিসেবে ঠিক হবে। কেননা বিনিয়োগকৃত টাকার শতকরা হিসেবে লভ্যাংশ নির্ধারিত হলে সূদ হবে। এই পদ্ধতিতে কোম্পানী তার মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শ্রম বিনিয়োগের জন্য লাভের অংশ পাবে। প্রয়োজনীয় অনুসংগিক খরচ বিনিয়োগকারীকেই বহন করতে হবে। উল্লেখ্য লাভের পরিমান উভয় পক্ষের কাছে সুস্পষ্ট থাকতে হবে।
* যদি এই ধরনের বিনিয়োগে লোকসান হয় তাহলে বিনিয়োগকারী লোকসান বহন করবেন আর কোম্পানী তার সময় , শ্রম ও মেধার বিনিয়োগ এর বিনিময়ে কোন টাকা পাবেনা। তবে উক্ত প্রজেক্ট বাস্তবায়নে যেসব খরচ হয়েছে তা বিনিয়োগকারীকে বহন করতে হবে।
৩. মুরাবাহা পদ্বতিতে বিনিয়োগ
মুরাবাহ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ হচ্ছে ইনভেস্টর কোম্পানীর মাধ্যমে কোন কিছু ক্রয় করবেন আর কোম্পানী তাঁর কাছ থেকে উক্ত জিনিস ক্রয়মূেল্যর সাথে লাভসহ কিনে নিবে এবং ইনভেস্টরকে চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন ইনস্টলমেন্ট বা নির্ধারিত সময় শেষে টাকা পরিশোধ করবে।
উপরোলি্লখিত সকল ক্ষেত্রে,
ক. কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যদি কোন ব্যক্তি বা ওহরঃরধষ ওহাবংঃসবহঃ প্রতিষ্ঠান ব্যবসার মোট ১০০% এর যতটুকু অংশ (%) প্রাথমিক বিনিয়োগ () করেন, উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পরবতর্ীতে ঐ প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজন অনুপাতে প্রাথমিক বিনিয়োগের পার্সেন্ট (%) অনুসারে বিনিয়োগ করতে হবে। যদি কেউ তা করতে সন্মত না হন বা করতে না পারেন তাহলে তাঁর সাথে কোম্পানী যেরুপ প্রযোজ্য মনে করে চুক্তি করবে।
খ. যদি ব্যবসায়ে ক্ষতি হয় প্রত্যেক পক্ষ বিনিয়োগ অনুসারে এর অংশীদার হবে।
